এখনই ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনই সরে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। সোমবার (১৯ অক্টোবর) কানসাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ একজন বলেছিল, আপনারা এখনই চলে যেতে পারেন। কথাটি সত্যি। আমরা এখনই চলে যেতে পারি। তারা পরমাণু অস্ত্র পাবে না।’

ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্ব ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী আর কার্যকর অবস্থায় নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ইরানের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির ২২৯টি যুদ্ধবিমান বিভিন্ন রানওয়েতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, কার সঙ্গে আলোচনা করব।’ তার দাবি, ইরানের নেতৃত্বের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিরা নিহত হয়েছেন এবং তৃতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের অর্ধেকও আর নেই। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের অবশিষ্ট নেতারা তার কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছেন, যাতে আগের নেতাদের মতো তাদেরও হত্যা করা না হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদে ইরানের সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার কথা উল্লেখ করেন।

বিক্ষোভ দমন ও কুস্তিগিরের মৃত্যুদণ্ড নিয়েও মন্তব্য

সমাবেশে ইরানে ভিন্নমত দমনের বিষয়টিও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তার দাবি, গত আট মাসে ইরানি কর্তৃপক্ষ অন্তত ৭৫ হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। তবে এই সংখ্যার পক্ষে তিনি সমাবেশে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেননি। ট্রাম্প বলেন, রাস্তায় মেশিনগান নিয়ে বিক্ষোভকারীদের গুলি করা হলে মানুষের পক্ষে প্রতিবাদ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ সময় ইরানি কুস্তিগির সালেহ মোহাম্মাদির মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। ট্রাম্প তাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কুস্তিগির হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, তরুণ এই ক্রীড়াবিদকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চে সালেহ মোহাম্মাদি, মেহদি ঘাসেমি ও সাঈদ দাভুদিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দেশটির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় তারা দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগে মোহাম্মাদির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন ট্রাম্প এবং তাকে ‘তারকা কুস্তিগির’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে ইরানের সামরিক শক্তি, নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক দাবি করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কখন যুদ্ধ থেকে সরে আসবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেননি।