ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনার পর প্যারিসের বাইরেও রাতের কারফিউ জারি করছে কর্তৃপক্ষ। নতুন করে কারফিউয়ের আওতায় এসেছে নিস, লিওঁ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ বিভাগের কয়েকটি এলাকা। সোমবার ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্যারিসে প্লাস দে লা রিপাবলিক এলাকা এবং লে আল এলাকার আশপাশের সড়কে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে। এ বিধিনিষেধ শুধু অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নয়, বরং ওই এলাকার সব মানুষের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া প্যারিসের নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিক্ষোভ-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
লিওঁ শহরের কেন্দ্রীয় অংশ প্রেসকিলের নির্দিষ্ট এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হবে।
অন্যদিকে, নিসের মেয়র এরিক চিওত্তি শহরের কেন্দ্রের কয়েকটি সড়কে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সপ্তাহান্তে শহরের রাস্তায় সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের তৎপরতার পর বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের জিরন্দ বিভাগে আইনগত অভিভাবক ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বাইরে থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। ১৭ অক্টোবর লুটপাট ও ভাঙচুরে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে এ বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে।
এর আগে সোমবার ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের চারটি কমিউন লিল, দোয়ে, ওয়াতিনিয়ে ও দেনাঁয় দুই রাতের জন্য কারফিউ ঘোষণার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট মেয়রদের সম্মতিতে এসব এলাকায় রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।
দেনাঁ শহরে আলাদাভাবে রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া মার্সেই শহরেও জনসমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ১১০টি বিক্ষোভে অংশ নেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। এর মধ্যে প্যারিসে অংশ নেন প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ। দেশজুড়ে বিক্ষোভের ঘটনায় প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সহিংসতা ও লুটপাটের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে কারফিউ ও অন্যান্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু।
তিনি সহিংসতা ও লুটপাটে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে বড় ধরনের বিচারিক কার্যক্রম শুরুর কথাও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে আংশিক বেকারত্ব-সংক্রান্ত ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো। তবে বিভিন্ন শহরে কারফিউয়ের সময়সীমা, আওতাভুক্ত এলাকা ও বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ এক নয়। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা কার্যকর হবে।