ইরানের কুর্দিস্তান অঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিপুলসংখ্যক সেনা ও ভারী-হালকা সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার (২১ অক্টোবর) কুর্দিস্তান হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সানানদাজ, কামিয়ারান, সারভাবাদ, মারিভান ও বানেহ এলাকায় আইআরজিসির সেনা ও সামরিক বহর পৌঁছেছে। এসব সেনা ও সরঞ্জামের একটি অংশ ইরানের অন্যান্য প্রদেশ থেকে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠনটি। তবে এসব মোতায়েনের বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কুর্দিস্তান হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ককে কামিয়ারানের এক স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে আইআরজিসির কয়েকশ বিশেষ বাহিনীর সদস্যকে শাও পাহাড়ের ঢালসংলগ্ন গ্রামগুলোর আশপাশে মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রটির দাবি, এসব সেনা আইআরজিসির সাবেরিন ইউনিটের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকায় পৌঁছানোর পর তারা কয়েকটি স্থানে অতর্কিত হামলার অবস্থানও তৈরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেনাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, মোতায়েনের উদ্দেশ্য কিংবা সম্ভাব্য অভিযানের লক্ষ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য দেওয়া হয়নি।
সংগঠনটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সানানদাজ, সারভাবাদ ও মারিভানের স্থানীয় সূত্রগুলো আইআরজিসির গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের স্থানান্তরের খবর দিয়েছে। তাদের দাবি, উর্মিয়ার হামজে সাইয়্যেদ আল-শোহাদা ঘাঁটি থেকে এসব সদস্যকে সানানদাজে আইআরজিসির বেইত আল-মোকাদ্দাস ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে শাও ও মারিভানের পার্বত্য এলাকায় কামানের গোলাবর্ষণ এবং ড্রোন হামলায় ওই বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন। তবে এসব হামলার লক্ষ্য, ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই। বানেহের আরেকটি স্থানীয় সূত্রের বরাতে মানবাধিকার সংগঠনটি জানিয়েছে, কামানসজ্জিত আইআরজিসির একটি সামরিক বহর সীমান্তবর্তী সুরিন পাহাড়ি এলাকার আশপাশে মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ধরনের সামরিক তৎপরতা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে মোতায়েনের কারণ সম্পর্কে ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় এটিকে নির্দিষ্ট কোনো সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দিস্তান এলাকা ইরাকের সীমান্তসংলগ্ন। অঞ্চলটির পার্বত্য ভূপ্রকৃতি এবং সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে এখানে সামরিক ও নিরাপত্তা তৎপরতা কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।
আইআরজিসি ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বাহিনী, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রমেও ভূমিকা পালন করে। বিশেষ বাহিনী, গোয়েন্দা ইউনিট, কামান ও ড্রোনের উপস্থিতি এসব তথ্য সঠিক হলে ওই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিতে পারে।