হরমুজে এক রাতেই ৭ জাহাজে হামলা চালালো আইআরজিসি

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এক রাতেই সাতটি জাহাজে হামলার খবর নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে তিনটি জাহাজ মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চারটি জাহাজকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এসব জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং ওয়াশিংটনের উৎসাহে পরিচালিত বলে মনে করছে। আইআরজিসির স্বীকার করা হামলার হিসাবে এক দিনে এতসংখ্যক জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে জাহাজগুলোর পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ এবং প্রতিটি ঘটনায় হামলার দায় স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

হামলার ঘটনাগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কথিত আগ্রাসন মোকাবিলায় নতুন সামরিক নীতির কথা বলছে আইআরজিসি। এই নীতির ব্যাখ্যায় ইরান বলছে, দেশটির ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপকে কেবল অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হবে না; বরং এটিকে যুদ্ধের শামিল বলে বিবেচনা করা হতে পারে।

এ অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে ইরান বোঝাতে চাইছে—যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সরাসরি আকাশপথে হামলা চালালেই কেবল পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বিষয়টি এমন নয়। ইরানের দৃষ্টিতে, দেশটির সামুদ্রিক চলাচল বাধাগ্রস্ত করা বা অবরোধে সহায়তা করাও সামরিক প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কিছু জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহ, সহায়তা কিংবা সমর্থনপুষ্ট বলে বিবেচনা করছে ইরান। এ কারণে শুধু প্রণালি অতিক্রম করার সময়ও জাহাজগুলো ইরানি প্রতিশোধের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজে জাহাজ চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। এই পথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক তেলবাজার, পরিবহন ব্যয় ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

এক রাতেই সাতটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর সত্য হলে তা বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়াবে। বিশেষ করে মাইনের ব্যবহার এবং সরাসরি হামলার ঘটনা একই সময়ে ঘটলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি মূল্যায়ন, বিমা ব্যয় ও নৌপরিবহনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে হামলার খবরের ভিত্তিতে পুরো প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে জাহাজ চলাচলের তথ্য, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সতর্কতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

আবারও কি যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে?

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানও সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানাচ্ছে এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা থাকার দাবি করছে।

এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। বিশেষ করে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটলে বা যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ আক্রান্ত হলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আগামী দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল, আইআরজিসির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপত্তা এখন শুধু আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা।