ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় গত তিন বছরে মার্কিন করদাতাদের ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, ইসরায়েলকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ইসরায়েলের চেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ছুড়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, গত তিন বছরে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ১১ বিলিয়ন ডলার।
তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকের সংখ্যা ইসরায়েলের নিজেদের ছোড়া প্রতিরোধকের চেয়ে বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে আরাঘচি লেখেন, ‘এটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্ক নয়; বরং এটি একটি পরজীবী সম্পর্ক।’
তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্লেষক স্টিফেন সেমলারের প্রকাশিত একটি ইনফোগ্রাফিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের আনুমানিক ৬০৯টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ছোড়ার হিসাব দেওয়া হয়েছে। এগুলোর আনুমানিক মূল্য ১১ বিলিয়ন ডলার।
ইনফোগ্রাফিকটির তথ্যের ভিত্তি হিসেবে পেন্টাগনের অস্ত্র কেনাকাটাসংক্রান্ত তথ্য, অভ্যন্তরীণ বাজেট পুনর্বণ্টনের হিসাব, উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হিসাবে যেসব প্রতিরোধক ব্যবস্থার কথা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- SM-2, SM-3 ও SM-6: বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থা।
- THAAD: উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা।
- Patriot: আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা।
২০২৫ ও ২০২৬ সালে ব্যয়ের বড় অংশ
ইনফোগ্রাফিকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলকে রক্ষায় ছোড়া প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যয় ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত এ ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বলে দাবি করা হয়েছে।
এই হিসাবগুলো আরাঘচির বক্তব্যের পাশাপাশি উপস্থাপন করে তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দুই দেশের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে ১১ বিলিয়ন ডলারের হিসাবটি একটি বিশ্লেষণভিত্তিক অনুমান। এর পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি ও প্রতিটি খাতের ব্যয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা, অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে আসছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যে তার গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।
আরাঘচির বক্তব্যে এই সম্পর্কের ব্যয় ও সুবিধার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে তাঁর ‘পরজীবী সম্পর্ক’ মন্তব্যটি রাজনৈতিক মূল্যায়ন; এটি দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নয়।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি