হেবরনে অবরুদ্ধ প্রায় পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনি, স্থাপন করা হয়েছে সামরিক চৌকি 

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি অবরোধ, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শহরটির প্রায় পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে শহরের ফারশ আল-হাওয়া এলাকা এমনভাবে বদলে গেছে যে, সেখানে বসবাসকারী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতারাতি দুই শতাধিক পরিবারকে তাদের বাড়িঘর থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। কিছু বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে সামরিক চৌকিতে রূপান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক উচ্ছেদ ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে এলাকার চেহারা বদলে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, শহরের অন্য এলাকাগুলোতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হতে পারে।

বাড়িঘর হারানো পরিবারগুলোর জন্য হেবরন পৌরসভা অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। তবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাঁদের আবাসন, খাবার এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

পরিস্থিতির অবনতির কারণে ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী দুই দিন শিশুদের বাড়িতে রাখার জন্য স্কুলগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অবরোধ ও সামরিক অভিযানের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবারগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হেবরনে সাম্প্রতিক ধ্বংসযজ্ঞ ও উচ্ছেদের ঘটনায় শহরের অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ফারশ আল-হাওয়ার পর অন্য এলাকাগুলোতে একই ধরনের অভিযান চালানো হলে আরও বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অভিযানের নির্দিষ্ট কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এবং হতাহতের বিষয়ে দেওয়া তথ্যের বিস্তারিত এই প্রতিবেদনের সরবরাহ করা বিবরণে নেই।

হেবরনের পরিস্থিতি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা, আবাসন এবং চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।