ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার জয় নিয়ে বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তার এই জয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও রাজনীতিকেরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। যদিও দুই প্রার্থীই ভোটের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন।

রোববারের (২৫ অক্টোবর) নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনীতিকেরা লুলার বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম লেখেন, ‘গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক, ব্রাজিলের জনগণ জয়ী হয়েছে।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অভিনন্দন বার্তায় কানাডা ও ব্রাজিলের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে লুলার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। এর মাধ্যমে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ভোটের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ব্রাজিলে কোনো রক্ষণশীল সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যেত। কিন্তু এবার বিষয়টি নিয়ে তারা নীরব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স লুলার ‘অসাধারণ পুনর্নির্বাচনী বিজয়ে’ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, লুলা শ্রমজীবী মানুষ ও গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন এবং আগামী চার বছরও তা অব্যাহত রাখবেন। কংগ্রেসম্যান রো খান্না এক্সে লেখেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানুষ উগ্রবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ব্রাজিলে লুলার জয় সেই লড়াইয়েরই সাফল্য। তার মতে, কর্তৃত্ববাদী নেতারা গণতন্ত্রকে আক্রমণ করেন, কারণ তারা জনগণের ইচ্ছার কাছে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা করেন। খান্না আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া এবং ব্রাজিলের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা না করা।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি লেখেন, ‘ঐক্যবদ্ধ জনগণকে কখনো পরাজিত করা যায় না।’ ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের প্রেস দপ্তর থেকেও বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, গণতন্ত্র রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকদের অধিকার শক্তিশালী করা এবং শ্রমজীবী পরিবারের উপযোগী অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকারে ব্রাজিল ও বিশ্বের অন্যান্য অংশীদারের পাশে থাকতে পেরে নিউজম গর্বিত।

এদিকে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল লুলার বিজয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই জয় ব্রাজিলের জনগণের বেছে নেওয়া শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি আরও বলেন, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার পথে ব্রাজিল কিউবাকে পাশে পাবে।

চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত জানিয়েছেন, লুলার সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। কাস্ত বলেন, চিলি ও ব্রাজিলের সামনে যৌথভাবে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক সংহতি বাড়ানো এবং অঞ্চলজুড়ে সংগঠিত অপরাধ দমনে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, বলিভিয়া ও ব্রাজিল প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। অভিন্ন ইতিহাসের পাশাপাশি দুই দেশের সামনে রয়েছে একই ধরনের নানা চ্যালেঞ্জ। সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং দুই দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে তাঁরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।

পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ব্রাজিলের জনগণকে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে লুলাকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: আল-জাজিরা