হরমুজ দিয়ে ১৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানির দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বাধা ও হুমকি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ১৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করতে পেরেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ কাজে মার্কিন বাহিনী সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সেন্টকম জানায়, গত ছয় মাসে তাদের সহায়তায় ৩ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ পথে চলাচলকারী ৯৫ শতাংশের বেশি জাহাজ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে তারা।

সেন্টকমের ভাষ্য, ইরানের হুমকি সত্ত্বেও জাহাজ চলাচলের এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদারেরা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটির নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

এ সময় মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। সফরের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

এক বিবৃতিতে কুপার বলেন, উপসাগরীয় অংশীদার ও নৌপরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন তাঁর এই সফর।

কুপার আরও জানান, মাইন অপসারণে নিয়োজিত কর্মীদের প্রচেষ্টায় প্রণালির জাহাজ চলাচলের প্রধান পথগুলো ইরানের পুঁতে রাখা মাইনমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলো, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) এবং নৌপরিবহন খাতের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরেছে তেল সরবরাহ

বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলার আশঙ্কা অব্যাহত থাকলেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ অনেকটাই যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরে এসেছে। বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ওই অঞ্চল থেকে প্রতিদিন অন্তত ১ কোটি ৬৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। ইরানের তেল বাদ দিয়ে হিসাব করা এই পরিমাণ যুদ্ধের আগের গড় সরবরাহের সমান।

বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর, মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাহারা এবং তেল পরিবহনে পাইপলাইনের ব্যবহার বাড়ানোর ফলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

তবে সরবরাহ বাড়লেও তেলের দাম এখনো যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক বেশি।

রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিমূল্য ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৪ ডলার ৫০ সেন্ট। আগের সপ্তাহে প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর আগের দিন, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার ৪৮ সেন্টে স্থির হয়েছিল।

সূত্র: আল-জাজিরা