ইরানই যুদ্ধ শুরু করেছে: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরু করেছে তেহরান, ওয়াশিংটন নয়। একই সঙ্গে আগের যুদ্ধবিরতিকে ‘সময় নষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের করিন্থ শহরে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকান এক আইনপ্রণেতার বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত—“আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করিনি। ইরানই আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে।”

তবে বক্তব্যে নিজের দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেননি ট্রাম্প। তাঁর মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত, যুদ্ধবিরতি এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

ইরানে সামরিক অভিযানের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেলের দাম আরও অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা তাঁর আগে থেকেই ছিল।

ট্রাম্পের ভাষায়, “আমি এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম, কারণ আমাদের সামনে আসলে কোনো বিকল্প ছিল না। এটা অনেক আগেই করা উচিত ছিল।”

তাঁর বক্তব্যে সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি এর অর্থনৈতিক মূল্য পরিশোধের প্রস্তুতি থাকার কথাও উঠে আসে। তবে তেলের দাম, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সংঘাতের সামগ্রিক প্রভাব নির্ভর করবে পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

আগের একটি যুদ্ধবিরতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা তাঁর কখনোই খুব একটা পছন্দ ছিল না।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা একটি ছোট যুদ্ধবিরতি করেছিলাম, যেটি আমার কখনোই খুব একটা ভালো লাগেনি। আমরা ভালো হতে চাই, কিন্তু আমার বিবেচনায় এটি ছিল নিছক সময় নষ্ট।”

তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরান প্রশ্নে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করছেন। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং এর শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

বক্তব্যে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যেগুলো ইউরোপে পৌঁছাতে সক্ষম। তাঁর দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব।

তিনি বলেন, “তারা সান দিয়েগোতে আঘাত হানতে পারত, লস অ্যাঞ্জেলেসেও আঘাত হানতে পারত, আমাদের শহরগুলোতেও হামলা চালাতে পারত।”

তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পর্কে ট্রাম্পের দাবির পক্ষে বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। এ ধরনের দাবি যাচাই করতে স্বাধীন সামরিক মূল্যায়ন ও নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি, জ্বালানি বাজার এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে তাঁর মন্তব্য সংঘাতের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত দিকগুলোকে আবারও আলোচনায় এনেছে।