‘শক্তিশালী ইরান’ গড়তে বিস্তৃত রূপরেখা দিলেন মোজতবা খামেনি

ইরানকে আরও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নতুন সীমা অতিক্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনি। এ জন্য দেশের মেধাবী বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও ক্রীড়াবিদদের জাতীয় উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির (এমএনএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হজরত ফাতিমা যাহরার (রা.) শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বৈজ্ঞানিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জনকারী ইরানিদের অভিনন্দন জানান মোজতবা খামেনি। প্রেস টিভির বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

বার্তায় জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবিক বিদ্যায় আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে ইরানি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ইরানি খেলোয়াড়দের অর্জনের প্রশংসা করেন তিনি।

মোজতবা খামেনি বলেন, দেশের পরিবর্তন ও উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য মেধাবীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা ও আশাবাদ রয়েছে, তা তিনি বহু বছর ধরে প্রত্যক্ষ করেছেন।

বিশেষ করে নারী ক্রীড়াবিদদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁদের সাফল্যের মাধ্যমে ইরানের প্রাণশক্তি ও সক্ষমতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

মেধাবী ব্যক্তিদের সংজ্ঞা তুলে ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, কেবল প্রতিভা ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হওয়াই কাউকে প্রকৃত অর্থে মেধাবী করে তোলে না। বরং নিজের সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি সমাজের কার্যকর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ব্যক্তি ও সমাজের উন্নয়নে প্রতিভাকে কাজে লাগানোই প্রকৃত মেধার পরিচয়।

তাঁর মতে, ইরানের মেধাবীরা জ্ঞান ও প্রতিভাকে মানুষের বাস্তব সমস্যা সমাধানের উপকরণে রূপান্তর করার সক্ষমতা দেখিয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে স্টেম সেল গবেষণা, ন্যানোপ্রযুক্তি, জীবপ্রযুক্তি, মহাকাশ ও বিমান চলাচল-সংশ্লিষ্ট উন্নত প্রযুক্তি, শিল্প, খনি, চিকিৎসা, কৃষি, পারমাণবিক জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে ইরানি গবেষকদের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় টারবাইন, পানি লবণমুক্তকরণ প্রযুক্তি, কৃষিকাজে ড্রোন, রয়ান ইনস্টিটিউটের গবেষণা, রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস, রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট এবং প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রযুক্তির অগ্রগতির উদাহরণ দেন।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি ইরানের দৈনন্দিন জীবনেও দৃশ্যমান প্রভাব ফেলছে।

মোজতবা খামেনি বলেন, একটি শক্তিশালী ইরানের ভিত্তি হলো বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। উদীয়মান বৈশ্বিক সমীকরণ এবং নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের অবস্থান নির্ধারণে এই সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের প্রতিপক্ষরা দেশটির বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সহ্য করতে পারে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে ইরানের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও মেধাবীদের হত্যার ঘটনাগুলো দেশের জাতীয় শক্তি রক্ষায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারই প্রমাণ।

বার্তায় তিনি ইরানের বিজ্ঞানী ও মেধাবীদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব ঘটনাকে ইরানের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

মোজতবা খামেনির বক্তব্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শক্তি বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো—মেধাবীদের অর্জনকে গবেষণাগার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প, কৃষি, চিকিৎসা, জ্বালানি, অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষাসহ বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগানো।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অগ্রগতির উদাহরণগুলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। বিভিন্ন খাতে এসব প্রযুক্তির বাস্তব সক্ষমতা, উৎপাদনমাত্রা ও আন্তর্জাতিক তুলনামূলক অবস্থান নির্ধারণে স্বাধীন তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজন রয়েছে।