ইসরাইলের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন দেশের ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা। তাদের রেকর্ড পরিমাণ উপস্থিতির কারণে বড় ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশটি। বুথফেরত জরিপ (Exit Poll) অনুযায়ী, প্রধান দুই দলের কোনো পক্ষই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'কান'-এর জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট পাচ্ছে মাত্র ৫০টি আসন। অপরদিকে, বিরোধী জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ফলে নেসেটে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের কোটা পূরণ করা কারো পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না।
এই নির্বাচনে বড় সাফল্য দেখিয়েছে ইসরাইলের ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি জোট 'জয়েন্ট লিস্ট' এবং 'রাম'। তারা যৌথভাবে ১৮টি আসন পেতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। ইসরাইলি পার্লামেন্টে আরব প্রতিনিধিদের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান সংঘাত এবং বৈষম্যমূলক আচরণের জবাবে ফিলিস্তিনিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই তারা কেন্দ্রগুলোতে অভূতপূর্ব ভিড় জমান।
বর্তমান ফলাফলে নেতানিয়াহুর দল 'লিকুদ' ২৫টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হলেও সরকার গঠনে তারা ব্যর্থ হতে পারে। বিরোধী দলগুলোর মতে, এই ফল নেতানিয়াহুর নীতি ও শাসনের প্রতি জনগণের স্পষ্ট আস্থাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বিরোধী দলগুলো ফিলিস্তিনি জোটের সহযোগিতা না নিলে বিকল্প সরকার তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে ইসরাইলের চরমপন্থী রাজনীতিবিদদের অবস্থান এই প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে। যদি রাজনৈতিক দরকষাকষিতে সমাধান না আসে, তবে ফের নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র: সূত্র : মিডল ইস্ট আই