ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার সম্ভাবনার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ভেনেজুয়েলা থেকে আসা একটি তেলবাহী জাহাজ দেখিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, এতে ১০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার নয় মাস পর ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা তেল চুক্তির কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তির আওতায় ‘বিলিয়ন’ ব্যারেল তেল পাওয়া যাবে। অন্তর্বর্তী সরকারটি ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থনপুষ্ট।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হবে। এমনকি একদিন দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম সমৃদ্ধশালী অঙ্গরাজ্যও হতে পারে। তাঁর ভাষায়, এমন সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে গ্রিনল্যান্ড, কানাডা ও মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনার বিষয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে তাঁর সর্বশেষ মন্তব্যও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এতে কয়েক কোটি ভোটারের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময়ে ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি, ইরানের সঙ্গে বিতর্কিত যুদ্ধ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ তাঁর জনপ্রিয়তার ওপর চাপ তৈরি করেছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে তাঁর অনুমোদনের হার কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে মঙ্গলবারের সমাবেশে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, শিগগিরই দেশটিতে জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে।
তেলবাহী জাহাজটির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল বিজয় উদ্যাপন করছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর দাবি, এই তেল যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের কোনো খরচ ছাড়াই সরবরাহ করা হচ্ছে।
টেক্সাসে সমাবেশে বক্তব্য দিতে ওঠার কিছুক্ষণ আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, আলাস্কা থেকে ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি পশ্চিম গোলার্ধকে বিশ্বের জ্বালানি রাজধানীতে পরিণত করেছেন।
তবে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তেল চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা। তাঁদের অভিযোগ, দেশটিতে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ফেরার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। কারাকাসে তাঁর বাসভবনে অভিযানের পর তাঁকে আটক করে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি করতে নিউইয়র্কে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়ার পর ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেলকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানির দাম কমানো এবং নিজের প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তবে তেল চুক্তির পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে তাঁর মন্তব্যও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান