ইসরায়েলসহ সব বিদেশি বাহিনীতে মার্কিন অর্থায়নের বিরোধী আমি: এল-সাইয়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ বিদেশি সামরিক বাহিনীগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণে ব্যয় করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিশিগানের একটি শহরতলিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।

এল-সাইয়েদ বলেন, বিদেশে সামরিক অভিযানে বোমা ফেলার জন্য অর্থ পাঠানোর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের করের অর্থ দিয়ে দেশের ভেতরে বিদ্যালয়, সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়নের ব্যবস্থা করা উচিত।

তিনি বলেন, “আমি সাধারণভাবে বিদেশি সামরিক বাহিনীকে অর্থায়নের পক্ষে নই। এর মধ্যে ইসরায়েল রয়েছে। একইভাবে মিসর, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে।”

ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা নিয়ে বিতর্ক

ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, সামরিক ব্যয় এবং দেশের অভ্যন্তরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এল-সাইয়েদের বক্তব্যের পেছনে ছিল রেবেলিয়ন পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির (পিএসি) প্রকাশিত একটি বিতর্কিত বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনটিতে দুজন ব্যক্তিকে বলতে দেখা যায়, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে অর্থ দিতে গিয়ে তাঁদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্য কমে যাচ্ছে।

তবে ওই বিজ্ঞাপন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন এল-সাইয়েদ। তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনটির সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী প্রচারের সম্পর্ক নেই এবং তিনি এ বিষয়টিকে প্রচারের প্রধান আলোচ্য হিসেবে দেখতে চান না।

বিদেশি সামরিক সহায়তা নিয়ে বিস্তৃত অবস্থান

এল-সাইয়েদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তাঁর আপত্তি শুধু ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মিসর, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশের সামরিক বাহিনীর জন্য মার্কিন অর্থায়নের বিরুদ্ধেও তিনি অবস্থান নিয়েছেন।

এ অবস্থানের মাধ্যমে তিনি বিদেশি সামরিক ব্যয়ের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তবে তাঁর বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিদেশি সামরিক সহায়তা নিয়ে তাঁর অবস্থান একজন সিনেট প্রার্থীর রাজনৈতিক মতামত; এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি পরিবর্তিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।