ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়ন ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্ত করতে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের প্রধান। অভিযোগগুলো ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিকুদের অভিযোগ, কাতার ও তুরস্ক আরব ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনকে অর্থ দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ খারিজ করেছে পুলিশ। এদিকে, নির্বাচনে ব্যবহৃত ‘ডাবল এনভেলপ’ বা দ্বৈত খামের ভোট গণনা চলছে।
তদন্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট সতর্ক করেছেন, তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে নতুন নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) শপথ গ্রহণ বিলম্বিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। তার বক্তব্যের মূল উদ্বেগ হলো- নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের নিষ্পত্তি যেন সরকার গঠনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অযথা আটকে না দেয়।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন দলের নির্বাচনী অনিয়ম-সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ফলাফলে কী প্রভাব পড়তে পারে?
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইহুদি দলগুলোর বিরোধী ব্লক ৪৮টি আসন পেতে পারে। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সম্মিলিত আসন ১৯টি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার গঠনের জন্য ১২০ সদস্যের নেসেটে অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন।
সেনা সদস্য, কূটনীতিক ও অন্যান্য বিশেষ ভোটারের ‘ডাবল এনভেলপ’ ভোট গণনা শেষ হলে চূড়ান্ত ফলাফলে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তাই বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি ভোট গণনা এবং সরকার গঠনের আলোচনা দুই প্রক্রিয়াই এখন ইসরায়েলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।