যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ

এক হাতে বোমা, অন্য হাতে শান্তির চিঠি

একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে সামরিক আক্রমণের হুমকি, অন্যদিকে শান্তির চেষ্টা; আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্কের মধ্যে এখন এক অদ্ভুত টানাপোড়েন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে ইরানের এক নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো সমঝোতার ফ্রেমে পৌঁছাতে পারে কি না, তা যাচাই করতেই ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও আইআরজিসির সাবেক প্রধান মহসেন রেজাইয়ের কাছে এই বার্তা পাঠানো হয়। সূত্রের খবর, ট্রাম্পের সম্মতিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন ভ্যান্স।

তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়টি স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন। জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে কেবল অসুস্থ মানুষদের সহায়তার জন্য চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর বিষয়ে কথা হয়েছে, কোনো শান্তি আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আগামী সপ্তাহের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পার হলেই ইরানের ওপর নতুন করে এক স্বল্পমেয়াদি অথচ তীব্র বিমান হামলার ছক কষছেন খোদ ট্রাম্প।

সামরিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বেশ আগ্রহী জেডি ভ্যান্স। তিনি প্রকাশ্যে যুদ্ধের সমর্থন করলেও গোপনে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়ানোর পক্ষেই মত দিয়ে আসছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর আগেও তিনি কূটনীতিকেই প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরে ট্রাম্প তাকে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিযুক্ত করলে ভ্যান্স দুবার বিদেশ ভ্রমণ করে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

কিন্তু গত জুনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা নিয়ে মতভেদের কারণে দুই দেশের সমঝোতা মাত্র দেই সপ্তাহেই ভেস্তে যায়। পরে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও কোনো সুরাহা হয়নি। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে শুরুতেই পারমাণবিক ছাড় দিতে হবে, আর তেহরানের স্পষ্ট কথা, আগে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে।

আলোচনার টেবিলে মহসেন রেজাইয়ের উপস্থিতি পুরো কূটনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কিংবা স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মতো মধ্যপন্থি বা প্রাতিষ্ঠানিক নেতারা কিছুটা আড়ালে পড়ে যাচ্ছেন। আশির দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের এই প্রবীণ যোদ্ধা ও আইআরজিসির সাবেক প্রধান হিসেবে মার্কিন সামরিক হুমকির মুখে রেজাইয়ের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।

সম্প্রতি রেজাই সতর্ক করেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে পুরো অঞ্চলের ইন্টারনেট কেবল ও ডাটা সেন্টারে হামলা চালাবে ইরান। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নিরাপত্তাপ্রধানদের সঙ্গে এক বিরল বৈঠকে মুখোমুখি হন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের অবস্থান এখনো দোদুল্যমান। তিনি একদিকে বোমাবর্ষণের হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে সমঝোতার পথও খোলা রাখছেন। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য পরিস্থিতি বেশ কঠিন।