ইসরাইলের রাজনীতিতে চরম অস্থিরতার মধ্যে ফের নির্বাচন এড়াতে নতুন ও বিস্তৃত সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী ‘য়াশার’ পার্টির শীর্ষ নেতা গাদি আইজেনকোট। শনিবার বিরোধীদলীয় প্রধান ইয়ার লাপিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তিনি তাঁর এই রাজনৈতিক অবস্থান ও শর্তের কথা স্পষ্ট করেন।
সম্প্রতি শেষ হওয়া অনির্ধারিত নেসেট (পার্লামেন্ট) নির্বাচনে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আইজেনকোট বলেন, একটি শক্তিশালী জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার মতো জায়নবাদী সরকার এখন সময়ের দাবি। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে বারবার নির্বাচনের হাত থেকে বাঁচতেই বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
আইজেনকোট নতুন জোটে অন্তর্ভুক্তির জন্য কয়েকটি মূল শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—ইসরাইলকে গণতান্ত্রিক ও সমতাবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বজায় রাখা, সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সেনাসেবা কার্যকর করা এবং গাজায় হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা।
তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের জাতীয় স্বার্থে এই নীতিগুলো মেনে যেকোনো নির্বাচিত প্রতিনিধির জন্য তাঁদের নতুন সরকারের দরজা খোলা থাকবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক কারচুপি বা বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া কেবল জনগণের পছন্দের ভিত্তিতেই আগামী সরকার পরিচালিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই বিরোধী নেতা।
নতুন সরকার গঠনের পর তাঁদের প্রথম কাজ হবে একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা। পাশাপাশি বর্তমান নেতানিয়াহু সরকারের বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার-সংক্রান্ত আইনগুলো পুরোপুরি বাতিল করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইস্যুতেও নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছেন আইজেনকোট। তিনি জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত কেবল ইসরাইলের ওপর সরাসরি ও তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি এলেই কেবল সীমিত সামরিক পদক্ষেপে তাঁর সমর্থন থাকবে।
উল্লেখ্য, ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন এবং বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি আরব দলগুলো লাভ করেছে ১৯টি আসন। কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি