ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই'র সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ফোনালাপে এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী এই সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তারা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব রেজাই ও পুতিনের আলোচনায় সর্বশেষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি উঠে আসে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তারা। তবে ফোনালাপে কোন কোন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিংবা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
আলোচনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও দেশটির অন্যান্য কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন রেজাই। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং দেশটির অন্য জাতীয় বীরদের ভূমিকার প্রশংসা করায় তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে ইরানের জনগণের সহনশীলতা ও দৃঢ়তার প্রতি রাশিয়ার সমর্থনেরও প্রশংসা করেন ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক জোরদারে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করেন। একই বছরের অক্টোবরে চুক্তিটি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের পদক্ষেপ নেয় দুই দেশ।
এর আগে গত মাসে তেহরানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, দুই দেশের সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে। সে সময় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করে তেহরান ও মস্কো।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ফোনালাপেও দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সহযোগিতার কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সূত্র: প্রেস টিভি