অ-মার্কিন নাগরিক বলে সন্দেহভাজন প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট আলাদা রাখার নির্দেশ চেয়েছিল ওয়াশিংটন; সুপ্রিম কোর্টের এক লাইনের আদেশে সেই আবেদন নাকচ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অ-মার্কিন নাগরিক বলে সন্দেহভাজন প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট আলাদা করে রাখার নির্দেশ চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের করা জরুরি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে সোমবার (২ নভেম্বর) এ আদেশ দেন আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যালটগুলো নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত আলাদা রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের চাওয়া জরুরি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না। আদালত এক লাইনের স্বাক্ষরবিহীন আদেশে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেন। তবে সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো ব্যাখ্যা দেননি বিচারপতিরা। এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিচারপতি ভিন্নমতও জানাননি।
মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) দাবি করেছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় এমন ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাঁরা মার্কিন নাগরিক নন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের কাছে পাঠানো বা ফেরত আসা ডাকযোগের ব্যালট নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত আলাদা রাখার নির্দেশ চেয়েছিল প্রশাসন। এর উদ্দেশ্য ছিল, যাচাইয়ের আগে এসব ব্যালট যেন গণনায় অন্তর্ভুক্ত না হয়।
তবে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সরবরাহ করা তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের আশঙ্কা, তালিকায় মার্কিন নাগরিকদের নামও থাকতে পারে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব ব্যালট আলাদা করা হলে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন নিম্ন আদালতেও সুবিধা করতে পারেনি। গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত প্রশাসনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। পরে আপিল আদালতও জরুরি নিষেধাজ্ঞা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিচার বিভাগ। কিন্তু সেখানেও আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ নিজেই স্বীকার করেছে যে সন্দেহভাজন ভোটারদের শনাক্ত করতে ব্যবহৃত তথ্য পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও পদ্ধতি তাদের কাছে যথেষ্টভাবে সরবরাহ করা হয়নি।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, দেশটির নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিদের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া বেআইনি। তবে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা বিরল বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। ফলে সন্দেহের ভিত্তিতে বিপুলসংখ্যক ভোটারের ব্যালট আলাদা রাখার উদ্যোগ নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়।
ক্যালিফোর্নিয়ায় অক্টোবরের শুরু থেকেই আগাম ভোটগ্রহণ চলছে। রাজ্যটির নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত ৬০ লাখের বেশি ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট ফেরত এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ঠিক আগে ব্যালট আলাদা করার নির্দেশ দিলে ভোট গণনা ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন রাজ্য কর্মকর্তারা।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশে আপাতত ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যালট আলাদা রাখার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আইনি উদ্যোগ ব্যর্থ হলো। তবে এই আদেশে মূল মামলার সব আইনি প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে—এমনটি বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও রয়টার্স।