যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ফিলিস্তিনপন্থী প্রার্থীদের অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য স্তরের আইনসভায় গাজার পক্ষে কথা বলা নতুন একঝাঁক প্রার্থীর আগমন ঘটল।
ওয়াশিংটনের ইসরাইলবান্ধব পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রার্থীরা এবার সরাসরি আইনসভায় গিয়ে অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান এবং মার্কিন অর্থায়নের বিরুদ্ধে তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিরোধ।
মিশিগানের প্রতিনিধি পরিষদে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ফিলিস্তিনি আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব বজায় রেখেছেন রাশিদা তলাইব। একই সাথে নিউ ইয়র্ক, কলোরাডো ও জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে বিজয় অর্জন করে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি আমেরিকান।
নিউ ইয়র্কের ১২তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত আবিয়ার কাওয়াস প্রথম ফিলিস্তিনি আমেরিকান হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান দিক ছিল ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি ও স্থানীয় মানবাধিকার সুরক্ষা।
গাজায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা চিকিৎসকরাও এখন মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে কংগ্রেসে যাচ্ছেন। নিউ জার্সির ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে বিজয়ী সার্জন অ্যাডাম হামাভি সরাসরি গাজার ভঙ্গুর চিকিৎসাব্যবস্থার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলবেন।
মার্কিন সিনেটেও ঘটেছে নতুন ইতিহাস। মিশিগানে প্রথম মুসলিম আমেরিকান হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল আল-সাইয়েদ, যিনি যুদ্ধপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনেকেই মার্কিন অস্ত্র সহায়তা বন্ধে আইন পাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষ করে 'ব্লক দ্য বোম্বস অ্যাক্ট' সমর্থন করে ইসরাইলে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানি নিষিদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন তাঁরা।
আইনসভায় ফিলিস্তিন সমর্থকদের এই প্রভাব কতখানি কার্যকর হবে, তা এখন নতুন কংগ্রেসের নীতি নির্ধারণের ওপর নির্ভর করছে। তবে এই বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের বড় পরিবর্তন সূচনা করেছে।
সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রনিকল