কেনিয়ায় ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে ধর্মগুরুর ২০০ বছরের কারাদণ্ড

কেনিয়ার শাকাহোলা বনে অনুসারীদের অনাহারে রেখে ১৯১ জনকে হত্যার ঘটনায় স্বঘোষিত ধর্মগুরু পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। নিহতদের মধ্যে ১৯০ জনই শিশু। এ ঘটনায় ম্যাকেঞ্জির পাশাপাশি তার দুই ডজনের বেশি সহযোগীকেও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মোম্বাসা হাইকোর্ট শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত মাসে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৯০ শিশু ও এক প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যার দায়ে ম্যাকেঞ্জিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একই মামলায় তার ২৮ সহযোগীও দোষী প্রমাণিত হন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন ম্যাকেঞ্জির আইনজীবী। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে আরও পৃথক মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

২০২৩ সাল থেকে মালিন্দি উপকূলীয় পর্যটন এলাকার কাছে ধর্মীয় গোষ্ঠীটির ঘাঁটি শাকাহোলা বনে শত শত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ‘শাকাহোলা ফরেস্ট ম্যাসাকার’ নামে পরিচিতি পায়। কেনিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ছিল ৪২৯। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

প্রাণহানির ভয়াবহতা বিবেচনায় ম্যাকেঞ্জির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিল দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা। চলতি সপ্তাহে ডেপুটি ডিরেক্টর অব পাবলিক প্রসিকিউশনস জামি ইয়ামিনা বলেন, ম্যাকেঞ্জির অনুশোচনা, অপরাধের জন্য দুঃখ প্রকাশ, সংশোধনের সম্ভাবনা এবং শাস্তি লাঘবের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তার মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে প্রসিকিউশন। প্রসঙ্গত, কেনিয়ার আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও ১৯৮৭ সালের পর দেশটিতে কোনও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি।

ম্যাকেঞ্জির বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের প্রায় ১২০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। তাদের বর্ণনায় উঠে আসে, গোষ্ঠীটি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে ‘শয়তানি’ বলে আখ্যা দিত। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও হাসপাতালকে শয়তানের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করত। অনুসারীদের বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

সূত্র: রয়টার্স