আন্তর্জাতিক নারী দিবস

গাজায় নারীদের চরম অমানবিক জীবনযাপন

বিশ্বজুড়ে ৮ মার্চ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অর্জনকে সম্মান জানাতে সারা বিশ্বে নারীদের নানাভাবে সম্মাননা জানানো হচ্ছে। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দেশে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে। সেখানে নারীরা সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইসরায়েলি হামলার কারণে হাজার হাজার নারীকে বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়শিবিরে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে। বিশেষ করে গাজায় এখন প্রায় ৬০ হাজার গর্ভবতী নারী রয়েছেন, যারা ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় ভুগছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে শুক্রবার (৮ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

সূত্র মতে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা এই সময়ে গাজা উপত্যকার নারীরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, সেগুলো সামনে এনেছেন।

আল-কুদরা বলেছেন, প্রায় পাঁচ হাজার নারী এখনো এই অঞ্চলে প্রতি মাসে সন্তান প্রসব করছেন। গাজায় বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার গর্ভবতী নারী রয়েছেন, যারা সঠিক স্বাস্থ্যসেবা ছাড়াই তাদের গর্ভকালীন সময় পার করছেন এবং অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার মতো রোগে ভুগছেন।

মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা বলেন, আমরা ফিলিস্তিনি নারীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করার জন্য বিশ্বব্যাপী নারীদের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থীশিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ।