ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় অন্তত আরও ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২০ জন ত্রাণপ্রার্থীও ছিলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-পরিচালিত বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ নিতে গিয়েছিলেন।
ফিলিস্তিনি মেডিকেল সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
গাজার মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অব্যাহত হামলায় কমপক্ষে ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। যার ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান এই আগ্রাসনে নিহত মোট ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
মেডিকেল সূত্র আরও জানায়, সোমবার নিহত ৪৩ জনের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন ত্রাণপ্রার্থীও রয়েছেন। যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত বিতর্কিত সংস্থা জিএইচএফ পরিচালিত বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ নিতে গিয়েছিলেন। জাতিসংঘ এই ফাইন্ডেশনকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
গত ২৭ মে থেকে জিএইচএফ ত্রাণ বিতরণ শুরুর পর থেকে ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত ও প্রায় এক হাজার জন আহত হয়েছেন।
গাজা সিটি থেকে আল-জাজিরার হানি মাহমুদ বলেন, ‘ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত, একইসঙ্গে তারা গাজা উপত্যকাজুড়ে তাঁবু বা আবাসিক বাড়িতে মারাত্মক বিমান হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’
হানি মাহমুদ বলেন, ‘রাফা অথবা নেটজারিম করিডোরের খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে ক্ষুধার্ত জনতা জড়ো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৩ জন ত্রাণপ্রার্থীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ভোর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে নিহত ৩০ ফিলিস্তিনির মধ্যে তারাও রয়েছেন।’