গাজার দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধ চলাকালে সাত ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। বোমার আঘাতে একটি সাঁজোয়া যানে আগুন ধরে গেলে ভেতরে থাকা সেনারা নিহত হন। ওই ঘটনায় এক ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গতকাল জানায়, নিহত সেনাদের মধ্যে একজন কর্মকর্তা ও বাকি ছয়জন সৈন্য। তাদের সবার বয়স ১৯ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। সবাই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ৬০৫তম কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নভুক্ত ছিলেন।
আইডিএফের প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, সেনাদের বহনকারী সাঁজোয়া যানটি গত মঙ্গলবার খান ইউনিস শহরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় এক ফিলিস্তিনি যোদ্ধা সেটিতে বোমা স্থাপন করে দেয়। বোমাটি বিস্ফোরিত হওয়ার পর সাঁজোয়া যানটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। ভেতরে থাকা সব সেনার মৃত্যু হয়।
খান ইউনিসে এদিন পৃথক আরেক ঘটনায় ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের রকেটচালিত গ্রেনেড হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর একই ব্যাটালিয়নের আরো দুই সেনা আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের আঘাত গুরুতর।
এদিকে গাজা উপত্যকার বিতর্কিত নতুন সহায়তা কেন্দ্রগুলো থেকে ত্রাণ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৪১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আর এটিকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র থামিন আল-কেতান বলেন, ‘বিতরণ কেন্দ্রগুলোর আশপাশে বিশৃঙ্খলা, হতাহতের ঘটনা এবং গুলিবর্ষণ প্রায় নিয়মিত ব্যাপার হয়ে উঠেছে। কারণ দুর্ভিক্ষপীড়িত গাজাবাসী খাদ্য পাওয়ার জন্য সেখানে ভিড় করছেন।’
ইসরায়েলের সামরিকীকৃত মানবিক সহায়তা কাঠামো আন্তর্জাতিক সহায়তা বিতরণের মানদণ্ডের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করেন থামিন আল-কেতান। তিনি বলেন, ‘বেসামরিক জনগণের খাদ্য ও জরুরি সহায়তার মতো মৌলিক অধিকারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা এবং তাদের জীবনরক্ষাকারী সেবায় প্রবেশে বাধা দেয়া আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত।’
গাজার চিকিৎসাকর্মী ও বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ও সেনাদের গুলিতে মঙ্গলবার অন্তত ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।