গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৫৮ হাজার

গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৫৮ হাজার ছাড়িয়েছে। শুধু রবিবারই (১৩ জুলাই) বিভিন্ন হামলায় অন্তত ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খবর আল-জাজিরার

এর মধ্যে গাজা শহরের একটি জনবহুল এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারান ১২ জন, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন খ্যাতনামা চিকিৎসক আহমেদ কান্দিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনো এ হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

কাতার ভিত্তিক  গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রাণ বিতরণে কর্মরত ব্যক্তি ও বেসামরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ পরিচালিত কেন্দ্রগুলোকে ‘মৃত্যুর ফাঁদ’ এবং এই সহিংসতাকে ‘মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় গণহত্যার প্রকৌশল’ বলে মনে করা হচ্ছে।

জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে অন্তত ৮০৫ জন নিহত এবং ৫,২৫০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে পানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই শিশু। 

আল-আওদা হাসপাতালের চিকিৎসক আহমেদ আবু সাইফান জানান, এই ঘটনায় আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা একজন হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু কারিগরি ত্রুটিতে ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আর্ন্তজাতিক কোনো গণমাধ্যম।

বিস্ফোরণের পাশাপাশি গাজাবাসীকে এখন প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে খাবার ও পানির জন্য। জ্বালানি অবরোধের ফলে ডেসালিনেশন ও স্যানিটেশন প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানির সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিরাপদ পানি পেতে বাসিন্দাদেরকে এখন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ করতে হচ্ছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ জানান, ‘গাজার মানুষরা পায়ে হেঁটে রাফার দিকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিচ্ছেন, শুধু একটি খাবারের পেকেটের আশায়। তবুও তারা ইসরায়েলি বাহিনীর গুলির মুখে পড়ছেন।’

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও জাতিসংঘ একাধিকবার গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এখন পর্যন্ত নিহতদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু, এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি মানুষ।