১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতেই একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। বুধবার রাজধানী আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির গ্রুপের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের সিরিয়ার ভাইবোনেরা যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছে, ঠিক তেমনই ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।’
তুর্কি প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, ‘এই অঞ্চলে শান্তি কেবল ফিলিস্তিনি বা হামাসের ওপর নির্ভর করতে পারে না। শান্তি এক ডানাওয়ালা পাখি নয়। শান্তির পুরো বোঝা হামাস এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপানো ন্যায্য, সঠিক বা বাস্তবসম্মত পদ্ধতি নয়।’
গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এরদোয়ান আরও বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্পষ্ট আহ্বান সত্ত্বেও ইসরায়েল ইতিবাচক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। যদি সত্যিই শান্তি কামনা করা হয়, তাহলে ইসরায়েলের আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আবারও হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি সরকারকে বুঝতে হবে যে রক্তপাত, গণহত্যা, ডাকাতি বা বর্বরতার মাধ্যমে কিছুই অর্জন করা যায় না। দুই বছর ধরে তারা গণহত্যা চালানোর ক্ষেত্রে হিটলারকেও ছাড়িয়ে গেছে...তারা ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং নিরীহ শিশুদের অনাহারে মরতে দিচ্ছে। তারা গাজাকে ধ্বংসস্তূপের বিশাল স্তূপে পরিণত করেছে, তবুও সবকিছু সত্ত্বেও, তারা গাজার জনগণের প্রতিরোধের ইচ্ছা ভাঙতে পারেনি।’
এরদোয়ান বলেন, ‘তুর্কি এই সংকটের বহুমুখী পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যার মধ্যে রয়েছে- মানবিক সহায়তা, কূটনৈতিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। আমরা কখনই আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের একা ছেড়ে দেবো না।’
মিসরে চলমান শান্তি আলোচনায় যোগ দেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের প্রশংসাও করেছেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘হামাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রতি অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, যার ফলে শান্তির প্রতি তাদের ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।’
সূত্র: আনাদোলু