ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া ‘সামরিক পদক্ষেপের’ হুমকিকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান।
ট্রাম্পের এই ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানাতে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) সভাপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ইরান।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এই প্রতিবাদলিপি দাখিল করেন।
এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের যদি ইরান সরকার সহিংসভাবে হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত। আমরা যেকোনো সময় ইরানে পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। চিঠিতে রাষ্ট্রদূত ইরাভানি বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ‘বেপরোয়া, উসকানিমূলক এবং জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত। উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
উল্লেখ্য, ইরানি মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট চলছে। শুক্রবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।