ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইতিবাচক সূচনা

দীর্ঘ বিরতির পর ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনাকে একটি ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা শেষে তিনি জানান, সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ‘প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে নিবিড় ও ইতিবাচক পরিবেশে এই পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের অবস্থান, উদ্বেগের বিষয়গুলো এবং ইরানি জনগণের অধিকারের প্রশ্নটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখন পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের পরামর্শের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আল বুসাইদি এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেন। ইরানের প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে ছিলেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি, কাজেম ঘরিবাদি এবং মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। প্রতিনিধিদলে ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে জানান, এই আলোচনা শুধুমাত্র পারমাণবিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ ছিল এবং অন্য কোনো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা হয়নি। 

তিনি বলেন, ‘গত আট মাস ধরে চলা সংঘাতের ফলে যে গভীর অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। হুমকি ও উত্তেজনামুক্ত পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমেই কেবল একটি নতুন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।’

ইরানের পক্ষ থেকে প্রধান দাবি হিসেবে অর্থনৈতিক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকরভাবে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে ইরানের ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে তা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।