পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ব্যর্থতার পর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তেহরানসহ দেশের পাঁচটি প্রধান শহরে হামলা পরিচালনা করা হয়। লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি–এর কার্যালয় ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান–এর বাসভবন। এছাড়া মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের আবাসন, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হামলার আওতায় আসে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিশ্চিত করেছেন, আলী খামেনি বেঁচে আছেন। তিনি বলেন, “আমরা সম্ভবত এক বা দুইজন কমান্ডারকে হারিয়েছি, কিন্তু উচ্চপদস্থ সব কর্মকর্তা বেঁচে আছেন এবং আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।”
শিশুদের স্কুলও লক্ষ্যবস্তু
শুধু রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নয়; হামলার টার্গেট হয়েছে কোমলমতি শিশুদেরও। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারে তায়্যিবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়–এ ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলায় অন্তত ৭০ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তাদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে এবং হামলার সময় স্কুলে প্রায় ১৭০ ছাত্রী উপস্থিত ছিল। অনেক শিক্ষার্থী এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকতে পারে।
মার্কিন ও ইরানী প্রতিক্রিয়া
হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে “বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান” চালিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে।
ইরানও চুপ করে থাকেনি। তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সতর্কতা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। দেশজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ নিখুঁত নয়, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিপ্লবী গার্ডের হুঁশিয়ারি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।