শনিবার সকালে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করে। দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ৭০ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৫৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
স্থানীয় ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে হরমোজগান মেডিকেল সায়েন্সেসের প্রধান জানান, মিনাব ও জাস্ক শহরে হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মিনাবে স্কুলে সরাসরি হামলার অভিযোগ
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, মিনাব শহরের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি হামলা চালানো হয়। নগর কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর বলেন, হামলার সময় স্কুলে প্রায় ১৭০ জন ছাত্রী উপস্থিত ছিল। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহত অন্তত ৬০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্ব নিহতের খবর অস্বীকার
হামলার পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে তেহরান এসব দাবি অস্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান –এর ডেপুটি নির্বাহী মোহাম্মদ জাফর কায়েম্পানাহ এক্স–এ (সাবেক টুইটার) জানান, প্রেসিডেন্ট নিরাপদে আছেন। প্রেসিডেন্টের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান টেলিগ্রামে লেখেন, 'এইবারও হত্যাচেষ্টা সফল হয়নি।'
সেনাবাহিনীও কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামির মৃত্যুর খবর নাকচ করেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি অক্ষত রয়েছেন।
পাল্টা হামলায় ইরান
যৌথ হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত হেনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, এমনকি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আবুধাবিতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া বার্তা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, 'ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের এই যুদ্ধ সম্পূর্ণ অপ্ররোচিত ও অবৈধ।' তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এখন ‘ইসরাইল ফার্স্ট’-এ পরিণত হয়েছে—যার অর্থ 'আমেরিকা শেষ'।
সূত্র: রয়টার্স