ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনসমক্ষে যে শেষ ভাষণটি দিয়েছিলেন, তার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ওয়ানা’ (WANA) এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত এই ফুটেজে জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার পর খামেনি বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
ভাষণে খামেনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই প্রতিরোধী অস্ত্র থাকতে হবে। কোনো দেশের কাছে যদি প্রতিরোধী অস্ত্র না থাকে, তাহলে সেই দেশ শত্রুর পায়ের নিচে পিষ্ট হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে আমাদের দেশের জন্য শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক অস্ত্র খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আমেরিকা অযথা এতে নাক গলাচ্ছে-তারা বলছে, ‘তোমরা এত মাপের দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাখতে পারবে, তার বেশি নয়।’ এতে তাদের কী? এটা পুরোপুরি ইরানের নিজস্ব জাতীয় বিষয়।’
খামেনি ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি নিয়েও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন,‘তাদের মনে হয়-এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার বলেন-যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনও এমন চড় খেতে পারে, যে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যে খামেনি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের নীতিকে পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কঠোর বার্তা দেন। এই ভাষণই ছিল তার শেষ প্রকাশ্য বক্তব্য, যা এখন আঞ্চলিক উত্তেজনার নতুন প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।