ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে ১৮০

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে মেয়েদের স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ প্রধান হোসেইন কেরমানপুর জানিয়েছেন, গত রবিবার মিনা‌বে মেয়েদের একটি স্কুলে ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ১৮০ জন শিশু মারা গেছেন।

তিনি আরো বলেন, একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরানের গান্ধী হাসপাতালে হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে।

মিনাবের একজন স্থানীয় প্রসিকিউটর জানিয়েছেন- গত শনিবার সকালে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এসময় মিনাবের শাজারেহ তাইয়েবা প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ওপরও বোমা ফেলে প্রতিষ্ঠানটিকে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় শতাধিক নিহত হন; যার বেশিরভাগই শিশু শিক্ষর্থী। স্কুলে হামলায় আরো ৯৬ জন আহত হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হামলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেন, ‘মেয়েদের বিদ্যালয়টি গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং নিষ্পাপ শিশুদের মেরে ফেলা হয়েছে। ইরানের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে এই অপরাধের জবাব দেয়া হবে।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বেঘাই এ হামলাকে ‘স্পষ্ট অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনের সূত্রপাত হয়। ইরানকে পরমাণু গবেষণা এবং কর্মসূচি বন্ধ করতে বার বার সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারপরেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতিস্বীকার করেনি ইরান। ইরানের অনমনীয় মনোভাবে ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

দুই দেশের এমন টানাপোড়েন রোধে বেশ কয়েকবার বৈঠকও হয়। কিন্তু কোনো সমাধানসূত্র বের হয়নি। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডেও বৈঠকে বসেছিল দেশ দুটি। সেই বৈঠকও ফলপ্রসূ হয়নি। তারপরই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসে, তা হলে এর ফল ভুগতে হবে। সেই হুঁশিয়ারির মধ্যেই গত শনিবার ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এছাড়া নিহত হন সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

দুই দেশের হামলার জবাব দিচ্ছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইরান। এছাড়া ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুঁড়ছে ইরান। এতে অনেক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।