ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ

হামলা-পাল্টা হামলায় ৪ দিনে নিহত ৬ শতাধিক

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ আর লাশের মিছিল। ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সরাসরি যুদ্ধ আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামের এই ভয়াবহ অভিযানে দুই পক্ষের অন্তত ৬১১ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে শত শত সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা। আল-জাজিরার সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া। শনিবারের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং আইআরজিসি’র শীর্ষ ৫০ নেতা নিহত হওয়ার দাবি করেছে যৌথ বাহিনী। খামেনির বাসভবনে হামলায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরাও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইরানে এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩১টি প্রদেশের ১৩১টি শহর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবিস একটি গার্লস স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং দুবাই, দোহা, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, ইরানের হামলায় অন্তত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। কুয়েত, আমিরাত ও ইরাকেও বেশ কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সামরিক অভিযান অন্তত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করেছেন, ‘সবচেয়ে কঠিন আঘাত আসা এখনও বাকি।’ এই যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। ইরানের পক্ষ নিয়ে লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করেছে, যার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৩১ জন নিহত হয়েছেন।

এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং স্বর্ণের দাম হু হু করে বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বিমান চলাচল এবং বিশ্ববাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং প্রাণহানি বিশ্বজুড়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মহল এই ধ্বংসলীলা বন্ধের আহ্বান জানালেও তিন পক্ষই এখন পর্যন্ত হার না মানার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।