খামেনির দাফন কবে ও কোথায়

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার জন্মস্থান মাশহাদে সমাহিত করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এবং বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদের বাসিন্দা ছিলেন। ওই শহরের পবিত্র ‘ইমাম রেজা মাজার’ কমপ্লেক্সে তাঁর বাবার সমাধি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর পাশেই খামেনিকে দাফন করা হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে দাফন বা জানাজার সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় এখনও প্রকাশ করেনি ইরান সরকার।

বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছে, দাফনের আগে রাজধানী তেহরানে খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে এক ‘বিশাল’ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। শোকসন্তপ্ত নাগরিকদের প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দিতে রাজধানীর ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে মরদেহে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

খামেনির মৃত্যুর পর বর্তমানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদের হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছে। তবে ইরানের প্রভাবশালী ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) খামেনির মেজো ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করেছে বলে আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে। নিরাপত্তার খাতিরে বিশেষজ্ঞ পরিষদের চূড়ান্ত বৈঠকটি দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। এর আগে আশির দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ শাসনামলে তিনি যেমন জনপ্রিয় ছিলেন, তেমনি গত কয়েক বছরে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে প্রবল অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছিলেন।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন এই শীর্ষ নেতা। তাঁর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।