ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নতুন কমান্ডার কে এই ওয়াহিদি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ওয়াহিদি। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে তিনি এই শক্তিশালী বাহিনীর হাল ধরলেন, যখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ সামরিক আগ্রাসনের মুখে রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল হামলার শুরুর দিকে আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হন। তার আগে ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান হোসেইন সালামি। একের পর এক শীর্ষ কমান্ডারকে হারানোর পর অভিজ্ঞ আহমদ ওয়াহিদির ওপর আস্থা রেখেছে তেহরান।

আহমদ ওয়াহিদি কেবল একজন সামরিক কমান্ডারই নন, তিনি ইরানের রাজনীতিতেও অত্যন্ত প্রভাবশালী। সত্তরের দশকের শেষে আইআরজিসিতে যোগ দেওয়া ওয়াহিদি ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এলিট কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে কাসেম সোলেইমানি তার স্থলাভিষিক্ত হন। এছাড়া তিনি ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্লেষকরা ওয়াহিদিকে একজন ‘প্রজ্ঞাবান আমলা’ এবং ‘কঠোর সমরনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আশির দশকে 'ইরান-কন্ট্রা' ঘটনার সময় মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপন আলোচনায় অংশ নেওয়ায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল সম্পর্কে তার গভীর ধারণা রয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনায় ইহুদি কেন্দ্রে বোমা হামলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রয়েছে। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা রাখায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

বর্তমান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ইরানের অস্তিত্ব রক্ষা করাই ওয়াহিদির প্রধান চ্যালেঞ্জ। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও সুপ্রিম লিডার আলী খামেনির মৃত্যুর পর আইআরজিসির বিকেন্দ্রীভূত সামরিক কাঠামোকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা বজায় রাখাই হবে তার মূল পরীক্ষা। আলওয়ালিদ সেন্টারের পরিচালক নাদের হাশেমির মতে, ‘ইরান এখন এমন একজনকে খুঁজছে যিনি প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন এবং সৈন্যদের লড়াই চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবেন।’