তেহরানে নেই মোজতবা খামেনি, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর

ইরানের প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি বর্তমানে তেহরানে নেই। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তাকে একটি অজ্ঞাত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র।

শুক্রবার (৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স -কে এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। হামলাটিকে আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে দেশটি। এই হামলার মধ্যেই মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্য করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে।

দুটি ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সাম্প্রতিক এক যৌথ বিমান হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ওই হামলায় অংশ নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় চালানো সেই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও প্রাণ হারান। পরদিন ভোরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।

এরপর থেকেই ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি-র নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশটির প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামিক রেভুল্যেশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে চলছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যম সারির ধর্মীয় আলেম হিসেবে পরিচিত হলেও ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে তার প্রভাব দীর্ঘদিনের। কট্টরপন্থী ধারা সমর্থনকারী এই নেতা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, হামলার সময় তিনি তেহরানে উপস্থিত ছিলেন না। কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে হামলা থেকে রক্ষা পান, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও আলোচনা তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছাড়া নতুন নেতা নির্বাচনের উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে না। পাশাপাশি মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, আগের নেতৃত্বের নীতিই যদি নতুন নেতৃত্বে অব্যাহত থাকে, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স