ইরান অভিযানের পর ট্রাম্পের নজর কিউবায়

২০২৬ সালের মার্চ মাসের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এক আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেছে। ভেনিজুয়েলায় ক্ষমতার পরিবর্তন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর এবার ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে কমিউনিস্ট শাসিত কিউবা। বর্তমানে কিউবা এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে পুরো দেশ বারবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কিউবার বর্তমান সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে কাজ করছে সাম্প্রতিক কিছু আঞ্চলিক পরিবর্তন। গত ৩ জানুয়ারি ভেনিজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোর পতনের ফলে কিউবা তার প্রধান তেল সরবরাহকারী উৎস হারিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে মেক্সিকোর মতো দেশগুলোও কিউবার এই জ্বালানি ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসতে পারছে না। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, কিউবান নেতৃত্ব এখন টিকে থাকার জন্য আমেরিকার সাথে সমঝোতা করতে মরিয়া। তিনি এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কিউবান বংশোদ্ভূত কট্টরপন্থী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-কে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।

সংক্ষেপে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবাকে অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলার কৌশল নিয়েছে। একদিকে ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতি, অন্যদিকে ল্যাটিন আমেরিকায় সমাজতান্ত্রিক প্রভাব বলয় গুড়িয়ে দেওয়া—এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে চাচ্ছেন। কিউবার সাধারণ মানুষ যখন বিদ্যুৎ ও তেলের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে, তখন ট্রাম্পের এই মন্তব্য দ্বীপটিতে অচিরেই বড় ধরনের কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: বিবিসি