কাতারের ওপর ইরানের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি। প্রতিবেশী ইরানের এই পদক্ষেপকে তিনি এক ‘বিপজ্জনক ভুল হিসাব’ (Dangerous Miscalculation) বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কাতার প্রথমবারের মতো আক্রান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে স্কাই নিউজকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের কাছে বড় ধরণের এক বিশ্বাসঘাতকতা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো আক্রান্ত হয়েছে। অথচ আমরা স্পষ্ট জানিয়েছিলাম যে, আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে অংশ নেব না।’
ইরান দাবি করছে তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, তবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরানের প্রায় ২৫ শতাংশ হামলা সরাসরি বেসামরিক স্থাপনা—যেমন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পানি শোধনাগার এবং গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এসবের সঙ্গে যুদ্ধের কী সম্পর্ক? ইরান আসলে কী অর্জন করতে চায়?’
শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি মনে করিয়ে দেন যে, কাতার বিশ্বের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে এবং দেশটি অন্যতম প্রধান সার (Fertiliser) উৎপাদনকারী। ফলে এই অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
কাতার বরাবরই তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কে বড় ধরণের ফাটল দেখা দিয়েছে। কাতারি প্রধানমন্ত্রী ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষকেই উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কূটনীতিই এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ। ইরান যা করেছে তা সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে, এখন পুনরায় আলোচনায় বসা জরুরি।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, কাতারের মতো একটি মধ্যস্থতাকারী দেশ যখন ইরানের বিরুদ্ধে এমন কড়া ভাষায় কথা বলে, তখন বুঝতে হবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কতটা জটিল ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।