ইরান যুদ্ধ এখন ট্রাম্পের গলার কাঁটা!

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা সামরিক অভিযান যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের সামরিক ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম সব মিলিয়ে এই যুদ্ধ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় এই সংঘাত ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘জাম্প অ্যাট দ্য পাম্পস’ বা গ্যাস স্টেশনে তেলের দাম হু হু করে বাড়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভার্জিনিয়ার আরলিংটনের পাম্পগুলোতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ সেন্ট করে দাম বাড়ছে। গ্রাহকদের আশঙ্কা, আগামী এক সপ্তাহে গ্যালনপ্রতি তেলের দাম আরও ১.৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে ১৯৯০ এর দশকের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক মোতায়েন। পেন্টাগনের এই অভিযানের মোট ব্যয় খুব শীঘ্রই ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই বিপুল ব্যয় এখন ট্রাম্পের কট্টর ‘মাগা’ (MAGA) সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি করছে। তারা মনে করছেন, ট্রাম্প তার চিরাচরিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতি থেকে সরে গিয়ে আবারও বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ পরিবহন হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। গত সোমবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই পথটি বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহারের চেষ্টা করলে তা পুড়িয়ে দেওয়া হবে। এই হুমকির প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে এবং ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় মার্কিন হামলার ফলে তেলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে জ্বালানির দামকে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তার প্রধান সূচক ধরা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একবার বলেছিলেন, জনমত জরিপের ফলাফল কেমন হবে তা তেলের দাম দেখলেই বোঝা যায়। বর্তমানে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারাও একই আশঙ্কায় ভুগছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিশংসন ও আইনি তদন্তের মুখে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস কর্মকর্তাদের ওপর ‘ভালো কোনো খবর’ বের করার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছেন। প্রশাসন এখন ফেডারেল গ্যাসোলিন কর (১৮.৩ সেন্ট) সাময়িকভাবে বাতিল করার কথা ভাবছে। তবে এটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন এবং তেলের বাজারে এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ