মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না: আইআরজিসি

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামলা বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। 

আইআরজিসি-র বিবৃতিতে বলা হয়, যদি তাদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকে, তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বিশ্বের কোথাও পৌঁছাবে না। এর মাধ্যমে ইরান মূলত হরমুজ প্রণালীসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব প্রধান তেল সরবরাহ পথ বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই হুমকির পরপরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে দেশটিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী সামরিক হামলার মুখে পড়তে হবে। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি করেছে এবং প্রয়োজনে তারা আরও ‘২০ গুণ কঠোর’ হামলা চালাতে প্রস্তুত।

বর্তমান সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যেই ওই নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় এই প্রণালিতে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে সেই মন্তব্যের জবাব দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা নির্ধারণ করবে ইরানই।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সত্যিই ইরান তেল রপ্তানি বন্ধ করতে সক্ষম হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান