ইরানের বিদ্যালয়ে হামলা

ফরেনসিক প্রমাণে ট্রাম্পের দায় অস্বীকারের দাবি নাকচ

ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায় অস্বীকারের দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে নতুন ফরেনসিক প্রমাণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শজরেহ তৈয়বা স্কুলে ওই হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই শিশু। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন এই হামলা ইরান নিজেই চালিয়েছে, তবে ভিডিও ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ বলছে অন্য কথা।

স্কাই নিউজের ডেটা ও ফরেনসিক দল মেহর নিউজ এজেন্সির একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের ঠিক পাশেই অবস্থিত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একটি নৌঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে। ‘আর্মামেন্ট রিসার্চ সার্ভিসেস’ (ARES)-এর পরিচালক ও অস্ত্র বিশেষজ্ঞ এন.আর. জেনজেন-জোন্স ভিডিওটি দেখে নিশ্চিত করেছেন যে, এটি একটি মার্কিন ‘টমাহক’ (Tomahawk) ক্ষেপণাস্ত্র। এর অনন্য ডানা ও গঠন দেখে এটি শনাক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞের মতে, ইসরায়েলের কাছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নেই, যা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দিকে আঙুল তোলে।

প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি-র সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, নৌঘাঁটির তিনটি ভবনের ঠিক মাঝখানে নিখুঁত গোলাকার গর্ত তৈরি হয়েছে। একই ধরনের গর্ত লক্ষ্য করা গেছে স্কুলের ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশেও। এটি প্রমাণ করে যে, হামলাটি অত্যন্ত নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র বা ‘প্রিসিশন গাইডেড মিউনিশন’ দিয়ে চালানো হয়েছিল, যা সাধারণত মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়।

২০১৩ সালের মানচিত্র অনুযায়ী স্কুলটি নৌঘাঁটির সীমানার ভেতরেই ছিল। তবে ২০১৬ সাল নাগাদ সেখানে দেয়াল তুলে স্কুলটিকে পৃথক করা হয়। ২০১৮ সালের চিত্রে স্কুলের মাঠে শিশুদের খেলার জন্য রঙিন চকের দাগও স্পষ্ট দেখা গেছে। জাতিসংঘ এই হামলাকে ‘শিশু ও শিক্ষার ওপর গুরুতর আঘাত’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

যদিও মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন যে ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং ‘ইরানই কেবল বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে’, তবে ওই একই দিনে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্য প্রকাশ করেছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। এই নতুন তথ্য প্রমাণ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও নৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।