মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, হামলার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
বুধবার (১১ মার্চ) গভীর রাতে ইরাকের জলসীমায় অবস্থান করা বিদেশি পতাকাবাহী ট্যাংকার দুটিতে বিস্ফোরক বোঝাই দূরনিয়ন্ত্রিত নৌকা দিয়ে আঘাত হানা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একটি জাহাজ আগুনে সম্পূর্ণ জ্বলতে থাকে এবং চারদিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার পর ইরাকের তেলবন্দরগুলোতে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
হামলার শিকার জাহাজ দুটি হলো মাল্টার পতাকাবাহী জেফিরোস তেলবাহী ট্যাংকার এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী সেফসি বিষ্ণু তেলবাহী ট্যাংকার। ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর উম্ম কাসর বন্দর–এর কাছে এই হামলা হয়। এতে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
পরে হামলার একটি অংশের দায় স্বীকার করে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। তারা দ্বিতীয় ট্যাংকারটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর সম্পদ’ বলে উল্লেখ করে।
এর আগেই বুধবার (১১ মার্চ) বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি–তে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ওই প্রণালির কাছেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে আরেকটি কনটেইনার জাহাজে আঘাত হানার খবর দেয় যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য অভিযান দপ্তর।
এই পরিস্থিতিতে তেহরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জন্য নির্ধারিত ‘এক ফোঁটা তেলও’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কায় ফেলতে পারে। সূত্র: বিবিসি