হরমুজ প্রণালীতে কেন দিশেহারা পরাশক্তিরা?

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল রপ্তানির ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে এখন বিরাজ করছে চরম ‘মাইন’ আতঙ্ক। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ চোক-পয়েন্টে অন্তত কয়েক ডজন নৌ-মাইন পেতে রেখেছে। মাত্র ৩৫ হাজার ডলারের একেকটি মাইন কীভাবে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিমা কর্মসূচি এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে অচল করে দিচ্ছে, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা একে বলছেন ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ (Asymmetry War)। যেখানে ইরান খুব অল্প খরচে বিশাল প্রভাব তৈরি করছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ইতোমধ্যেই ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালীর এই অবরোধকে একটি ‘লিভার’ বা কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

ইরানের হাতে থাকা সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্রগুলোর একটি হলো ইএম-৫২ নৌ-মাইন। এটি সমুদ্রের তলদেশে বসানো থাকে এবং জাহাজের শব্দের ওপর ভিত্তি করে রকেটের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আঘাত হানে। এটি চুম্বকহীন হওয়ায় সাধারণ ডিটেক্টরে ধরা পড়ে না। ছোট মাছ ধরা নৌকার ছদ্মবেশে ইরানি কমান্ডোরা অত্যন্ত গোপনে এই মাইনগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

আধুনিক নৌবাহিনীগুলোর জন্য এই মাইন পরিষ্কার করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এর প্রধান ধাপগুলো হলো:
১. শনাক্তকরণ: আধুনিক ‘মাইন কাউন্টারমেজার’ (MCM) জাহাজগুলো সাইড-স্ক্যান সোনার ব্যবহার করে সমুদ্রের তলদেশে অস্বাভাবিক ধাতব বস্তু খোঁজে।
২. রোবটিক ড্রোন: মানুষের জীবনের ঝুঁকি কমাতে ‘অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল’ (AUV) বা খুদে রোবট ব্যবহার করে মাইন শনাক্ত ও ম্যাপিং করা হয়।
৩. হেলিকপ্টার: আকাশ থেকেও বিশেষ সেন্সর ব্যবহার করে পানির নিচের মাইনের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়।
৪. ধ্বংস করা: একবার মাইন খুঁজে পেলে রিমোট কন্ট্রোল রোবট বা ডুবুরিরা সেখানে বিস্ফোরক লাগিয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে সেটি উড়িয়ে দেয়।

মাইন অপসারণ একটি অত্যন্ত ধীর ও সূক্ষ্ম কাজ। একটি ছোট সন্দেহভাজন বস্তুকেও পরীক্ষা করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ইউকেএমটিও (UKMTO) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন ১৩৮টি জাহাজ এই পথ দিয়ে যেত, এখন সেই সংখ্যা ৫-এ নেমে এসেছে।

পেন্টাগন এবং মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ স্ট্রাইক গ্রুপ এই মাইনফিল্ড মোকাবিলা করার পরিকল্পনা করলেও, ইরানি স্পিডবোট এবং গুপ্ত মাইনের কারণে অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’র গতি থমকে গেছে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় নিরাপদ করা না গে