ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আজ ১৪তম দিন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সিরিজ হামলায় হামলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতের সংখ্যার পাশাপাশি আহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ১৮ হাজার ৫৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক দিনে হামলার তীব্রতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় হতাহতের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইরানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। আহতদের চাপ সামলাতে দেশটির সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও রক্তদাতার অভাব দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
গত দুই সপ্তাহে হামলার যে ধারা দেখা যাচ্ছে, তাতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তেহরান এই হামলাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।