মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে বিশেষ আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপের দুই দেশ ফ্রান্স ও ইতালি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিজেদের তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের ‘নিরাপদ যাতায়াত’ বা ‘সেফ প্যাসেজ’ নিশ্চিত করাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (FT) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স এবং ইতালি বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, যাতে যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেও তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি পুনরায় শুরু করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, এই আলোচনাগুলো এখনো প্রাথমিক বা ‘পরীক্ষামূলক’ পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্রান্স শুধুমাত্র আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তারা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনেরও চেষ্টা করছে। দুই ফরাসি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স বলছে, ইউরোপীয়, এশীয় এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে একটি যৌথ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে প্যারিস। এই পরিকল্পনার আওতায় যুদ্ধজাহাজগুলো বাণিজ্যিক তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিয়ে প্রণালী পার করে দেবে।
জার্মানি-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সিইএস-আইফো (CESifo)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের মোট অপরিশোধিত তেলের ৬.২ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ৮.৭ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই আমদানি করেছে। বর্তমান সংঘাতের ফলে এই পথটি বন্ধ থাকায় ইউরোপের বাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে এবং বড় ধরণের শিল্প বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।