ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি সচল ও নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের 'অনেক দেশ' তাদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে।
শনিবার এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, বিশেষ করে যেসব দেশ এই পথে তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের এই প্রচেষ্টায় শামিল হওয়া উচিত। তিনি চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক শক্তি ইতোমধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে প্রণালীটি পুরোপুরি দখলমুক্ত করতে উপকূলীয় এলাকায় ক্রমাগত বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) নৌপ্রধান আলিরেজা তাংসিরি জানান, হরমুজ প্রণালী সামরিকভাবে বন্ধ করা হয়নি, বরং এটি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কেবল ‘শত্রু রাষ্ট্র’ এবং তাদের মিত্রদের জাহাজ ও ট্যাঙ্কারের জন্য এই পথ নিষিদ্ধ।
প্রণালীর এই অস্থিরতার মাঝেই তেহরানের সাথে সরাসরি আলোচনার পর ভারত ও তুরস্কের কয়েকটি জাহাজ বিশেষ অনুমতি নিয়ে পার হতে সক্ষম হয়েছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ প্রবেশে ইরানের কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ২,৫০০ নৌসেনা এবং উভচর যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ত্রিপোলি' পাঠাচ্ছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই সামরিক মহড়া ও কূটনৈতিক টানাপড়েন বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।