ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া রহস্যের অবসান ঘটাতে মুখ খুলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি ‘সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন’ এবং পরিস্থিতির ওপর তার ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।
তবে তেহরানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে মোজতবা খামেনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-আরাবি আলজাদিদ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং দেশের প্রশাসনিক ও সামরিক সকল বিষয় তার নির্দেশেই পরিচালিত হচ্ছে।’
গত ৮ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাকে একবারও জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, আরাঘচির এই বক্তব্য তার জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে খামেনির যে ভাষণ প্রচার করা হয়েছিল, সেটি তার নিজের কণ্ঠে ছিল না; বরং একজন উপস্থাপক পড়ে শুনিয়েছিলেন।
মোজতবা খামেনির অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (১৪ মার্চ) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তিনি (মোজতবা) আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তার উপস্থিতির কোনো অকাট্য প্রমাণ দিতে পারেনি। আমি শুনছি যে তিনি হয়তো বেঁচে নেই।’
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি তিনি বেঁচে থাকেন, তবে নিজের ও দেশের স্বার্থে তার একটিই বুদ্ধিমানের কাজ করার আছে-আর তা হলো নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করা।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানান, ইরান যুদ্ধের একটি ‘ন্যায্য সমাপ্তি’ চায় এবং যে কোনো আঞ্চলিক শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জাহাজের জন্য তা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। আরাঘচি আক্ষেপ করে বলেন, এখন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের জন্য কার্যকর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আলোচনার টেবিলে নেই।