ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ যুদ্ধের মধ্যেই ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালিয়েছে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘সরাইয়া আউলিয়া আল-দাম’। আজ মঙ্গলবার গোষ্ঠীটি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ১ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
“আল-আউলিয়ার রিকনেসান্স ড্রোন” শিরোনামের এই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন দিনের আলোতে বাগদাদের সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন’-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ওপর দিয়ে অবাধে উড়ছে। ভিডিওতে দূতাবাসের অবকাঠামো, মার্কিন পতাকা এবং এর চারপাশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারিত আকাশচিত্র ধারণ করা হয়েছে। এটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ও তার মিত্র শক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি মুসলিম দেশগুলোকে এক খোলা চিঠিতে এই সংঘাতের ভয়াবহতা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে ধ্বংস করতে এই আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছে। ইরান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এর জবাবে ইসরায়েল এবং ছয়টি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের ওপর এই ড্রোন নজরদারি ইরাকে অবস্থিত মার্কিন কূটনীতিক ও সেনাদের জন্য বড় ধরনের হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান ও তার মিত্র শক্তিগুলো এই যুদ্ধের ময়দান আরও প্রশস্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।