পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে জরুরি সরঞ্জাম বিতরণ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই সম্ভাব্য পারমাণবিক বা রাসায়নিক হামলার আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার আগেই অঞ্চলজুড়ে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নির্দেশিকা সরবরাহ করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালগি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলে পারমাণবিক বা রাসায়নিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ ছিল। সেই কারণেই আগেভাগেই প্রস্তুতি জোরদার করা হয়, যাতে পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।

এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশে পটাশিয়াম আয়োডাইড বিতরণ করা হয়েছে, যা পারমাণবিক বিকিরণের সময় থাইরয়েড গ্রন্থিকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণও চালু করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যায়।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সম্ভাব্য পারমাণবিক ঘটনার প্রযুক্তিগত শনাক্তকরণের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ওপর থাকলেও, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দেয় তারা।

সংস্থাটির এই অঞ্চলে মোট ২২টি দেশ রয়েছে, যার অন্তত ১১টি বর্তমানে কোনো না কোনো সংঘাতে জড়িত। ফলে ঝুঁকির মাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং অতীতে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের নজির—এই দুই মিলিয়ে পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

ডব্লিউএইচও সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের বড় ধরনের বিপর্যয় পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ।