ইরানের বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র নায়েইনি নিহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েইনি  নিহত হয়েছেন। 

শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে চালানো এক বিশেষ অভিযানে তিনি প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ভোরের দিকে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। আইআরজিসির পক্ষ থেকে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল ও এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, এই হামলায় জেনারেল নায়েইনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাতবরণ করেন। আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘাতের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সুনির্দিষ্টভাবে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েইনির মৃত্যু ইরানের জন্য কেবল সামরিক ক্ষতি নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও বড় আঘাত। আইআরজিসির মুখপাত্র হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের সামরিক অবস্থান ও হুঙ্কার তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুতে ইরানের প্রচার ব্যবস্থা এবং বাহিনীর মনোবলে চির ধরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।