মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের তিন সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার দিনে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’।
শুক্রবার (২০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানকে নতি স্বীকার করতে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করতে দেশটির অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই ক্ষুদ্র কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপটির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের অন্তত চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্প এই দ্বীপটি দখল করে ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দিতে চান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরাসরি দ্বীপটি দখল করার আগে অন্তত এক মাস ধরে সেখানে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালিয়ে ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়া হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যে কোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত দেখতে চান। যদি এর জন্য উপকূলীয় আগ্রাসন বা সরাসরি দ্বীপ দখল করতে হয়, তবে তা-ই করা হবে।’
ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার ৫০০ সদস্যের একটি ‘মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স’ ওই অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এছাড়া সমপরিমাণ সদস্যের আরও দুটি নৌ-ইউনিটকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও ট্রাম্প সরাসরি সেনা পাঠানোর কথা স্বীকার করেননি, তবে তিনি রহস্য রেখে বলেছেন, ‘আমরা যেকোনো সময় ওই দ্বীপটি দখল করতে পারি। আমি ওটিকে একটি ছোট ও অরক্ষিত দ্বীপ বলি।’
খারগ দ্বীপ দখলের এই পরিকল্পনা মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান উপকূল থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরের এই দ্বীপে সরাসরি মার্কিন উপস্থিতি তেহরানকে ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণের সুযোগ করে দেবে। এতে মার্কিন সৈন্যদের বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান টম কটন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘বিচক্ষণতা’ বলে অভিহিত করলেও অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই অভিযান পুরো অঞ্চলকে এক অনিয়ন্ত্রিত ‘মহাযুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দিতে পারে।